ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য

আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪২ কোটি ডলার

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টেও অব্যাহত রয়েছে।

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টেও অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া এ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪২ কোটি ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের তুলনায় এটি কিছুটা কম হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক এ প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে রিজার্ভও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত অর্থবছরের আগস্টের পর দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। সে মাসে দেশে ২২২ কোটি ডলার পাঠান প্রবাসীরা। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে। এক মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে তখন। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস তথা জুনে বৈধপথে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় আসে দেশে। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এক বছরের হিসাবে দেশের ইতিহাসে প্রবাসীরা এত রেমিট্যান্স এর আগে আর কখনো পাঠাননি।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি অর্থবছরেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় আসে ২৪৮ কোটি ডলার। এরপর আগস্ট তথা গত মাসে ২৪২ কোটি ডলার আসে দেশে। এটি গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের আগে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। কভিড মহামারীর ওই বছরে প্রবাসীরা ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে এসেছিল ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (২৮ আগস্ট পর্যন্ত) ৩১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী, এটি ২৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। গত বছর সরকার পতনের পর আগস্টে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

আরও